ঘরে বসেই ভোটার প্রত্যয়নপত্র ডাউনলোড করবেন যেভাবে | ই-প্রত্যয়ন পদ্ধতি

নতুন ভোটার প্রত্যয়নপত্র অনলাইন আবেদন করার নিয়ম (A to Z গাইড)

আপনি কি নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনো হাতে ভোটার আইডি কার্ড পাননি? বিভিন্ন প্রয়োজনে (যেমন: পাসপোর্ট, সরকারি চাকরি বা ব্যাংকিং) আমাদের ভোটার প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশে আপনাকে আর নির্বাচন অফিসে দৌড়াতে হবে না। ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে আপনি ই-প্রত্যয়ন সংগ্রহ করতে পারেন।

নিচে ধাপে ধাপে আবেদন করার সহজ উপায় দেওয়া হলো:

নতুন ভোটার প্রত্যয়ন কী?

নতুন ভোটার প্রত্যয়ন হলো একটি সরকারি দলিল, যা প্রমাণ করে যে আপনি ভোটার হিসেবে সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি মূলত জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।


আবেদনের ওয়েবসাইট

অনলাইনে আবেদনের জন্য সরাসরি প্রবেশ করুন এই পোর্টালে: 👉 https://eprottoyon.com


অনলাইনে আবেদন করার সহজ ৯টি ধাপ

ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন প্রথমে eprottoyon ওয়েবসাইটে গিয়ে "রেজিস্টার" বাটনে ক্লিক করুন। আপনার নাম, সচল মোবাইল নম্বর এবং একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন। মোবাইলে আসা OTP কোড দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।

ধাপ ২: লগইন ও প্রোফাইল আপডেট আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। এরপর আপনার প্রোফাইল মেনুতে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, এনআইডি (NID) নম্বর এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন।

ধাপ ৩: সনদ নির্বাচন ড্যাশবোর্ড থেকে "সনদের জন্য আবেদন" অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে অনেকগুলো সনদের তালিকা আসবে, সেখান থেকে আপনি "নতুন ভোটার প্রত্যয়ন" সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৪: আবেদন ফরম পূরণ এখন একটি ফরম ওপেন হবে। এখানে আপনার নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ এবং ভোটার নিবন্ধনের তথ্যগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্লিপ অনুযায়ী নির্ভুলভাবে লিখুন।

ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড সাধারণত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আপনার এনআইডি স্লিপের স্ক্যান কপি বা ছবি এবং আপনার পাসপোর্ট সাইজ ছবি আপলোড করতে হতে পারে। ফাইলগুলো অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে।

ধাপ ৬: আবেদন জমা (Submit) সব তথ্য দেওয়ার পর একবার ভালো করে চেক করে নিন। বানান ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। সব ঠিক থাকলে "Submit" বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আপনি একটি আবেদন নম্বর পাবেন, এটি কোথাও লিখে রাখুন।

ধাপ ৭: আবেদন ট্র্যাকিং বা স্ট্যাটাস চেক আপনার আবেদনটি কোন অবস্থায় আছে তা জানতে লগইন করে "আমার আবেদন" মেনুতে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা (Pending, Approved বা Rejected) দেখতে পাবেন।

ধাপ ৮: পেমেন্ট (যদি প্রযোজ্য হয়) কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ/নগদ) মাধ্যমে পরিশোধ করতে হতে পারে। ফি পরিশোধের পর আপনার আবেদনটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে।

ধাপ ৯: প্রত্যয়নপত্র ডাউনলোড আবেদনটি অনুমোদিত (Approved) হয়ে গেলে আপনি অনলাইন থেকেই ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। এতে থাকা কিউআর (QR) কোড বা বারকোডই এর বৈধতা নিশ্চিত করে।


আবেদন করার সময় বিশেষ সতর্কতা

  • অবশ্যই নিজের সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা নিবন্ধন স্লিপ দেখে নির্ভুল তথ্য দিন।

  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো লিংকে তথ্য দেবেন না।

  • পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি (OTP) গোপন রাখুন।

উপসংহার

অনলাইনে ভোটার প্রত্যয়ন আবেদন প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ ও স্বচ্ছ। এই সনদটি আপনার সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রশাসনিক কাজে পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। যদি অনলাইনে কোনো সমস্যা হয়, তবে আপনার নিকটস্থ ডিজিটাল সেন্টারে অথবা উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।



সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. নতুন ভোটার প্রত্যয়নপত্র পেতে কতদিন সময় লাগে?

আবেদন করার পর সাধারণত ১ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়।

২. ই-প্রত্যয়ন ডাউনলোড করা কপি কি সব কাজে বৈধ?

হ্যাঁ, এতে থাকা ডিজিটাল কিউআর (QR) কোড দিয়ে যে কোনো প্রতিষ্ঠান এটি যাচাই করতে পারে, তাই এটি সব কাজে বৈধ।

৩. আবেদন করতে কত টাকা লাগে?

বর্তমানে ই-প্রত্যয়ন পোর্টালে প্রতিটি সনদের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ/নগদ) মাধ্যমে দিতে হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন